
দুর্গার দূত
Presentation
•
Fun
•
3rd Grade
•
Hard
Srilekha Kumar
Used 1+ times
FREE Resource
16 Slides • 0 Questions
1
দুর্গার দূত
By Srilekha Kumar
2
কয়েকদিন ধরেই ভারি চিন্তায় পড়েছে দুর্গা। পবন দেব নাকি বলেছেন এবছর কৈলাস পর্বতে শীত পড়বে খুব তাড়াতাড়ি। কার্তিক মাস পড়তে না পড়তেই দূরের পাহাড়ের চূড়া গুলো বরফে ঢেকে যাবে। তাই দুর্গা যেন এ বছর ছেলেপুলে নিয়ে আশ্বিনের শুরুতেই বাপের বাড়ি ঘুরে আসে।
3
শিবের মুখে একথা শোনার পর থেকেই দুর্গার মাথা গরম। সম্বচ্ছরে একবার যাওয়া। তার গোছগাছই তো অনেক। কৈলাস পর্বতে বড় বড় কমলা ফলে। প্রতি বছর বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় দুঝুড়ি মিষ্টি কমলা নিয়ে যায় দুর্গা। তাছাড়া মাসি -পিসি , বোনপো -বোনঝি , দাসী -চাকর সবার জন্য তা জামা -কাপড় নিয়ে যেতে হবে। হাতে করে কিছু নিয়ে না গেলে মুখ ভারী হবেনা তাদের ? এসবের জন্য নিচের গাঁয়ের তাঁতিকে খবর দিতে হবে। সে ফরমাশ মতো কাপড় বুনবে। সেসব নিয়ে তবে তো যাওয়া।
4
দুর্গা প্রথমটায় ভারি বিরক্ত হয়ে শিবঠাকুরকে গিয়ে বলেছিল ,"ওসব চলবে না। তুমি পবনঠাকুরকে বলে এসো গিয়ে , আমি আশ্বিনের মাঝামাঝির আগে বাপের বাড়ি যেতে পারব না। ওই বরফ ঠান্ডা হাওয়া আর তার দলবলকে যেন নিজের চিলেকোঠায় আটকে রাখে।
5
সে হবার নয় গো। কেন হবেনা কেন শুনি ?
স্বয়ং বিষ্ণুর আদেশ। অনন্তনাগের নাকি শরীর খারাপ। তাই বিষ্ণু নির্দেশ দিয়েছেন যাতে শীত তাড়াতাড়ি পরে। শীত পড়লেই তো অনন্ত নাগ ঘুমোতে চলে যাবে। এবার তাহলে অন্য উপায় ভাবতে হবে।
6
কিন্তু কী উপায় হতে পারে ? শীত না পড়লেতো ঠান্ডার দেশ থেকে হাঁসের দল উড়ে আসবেনা। যে তাদের মুখে খবর পাঠাবো।
প্রথমটায় দুর্গা ভেবেছিল হাঁস না আসুক কৈলাস পর্বতেতো হরেক রকম পাখি আছে। তাদের কাউকে দিয়েই না হয় দেব মা - বাবাকে। প্রথমপ্রথম পছন্দ হয়েছিল হাঁড়িচাচাকে।
7
হাঁড়িচাচা বলতেই সে খ্যাসখ্যাসে গলায় বলে উঠল , না না আমি ওসব পারব না বাপু। তুমি অন্য পাখি দ্যাখো বাপু।
হাঁড়িচাচা রাজি না হতে , দুর্গা এসে খবর দিল হুপুইকে। লেজের পিছনে ছোট্ট পেখমটি তুলে দিব্যি নাচতে নাচতে এল হুপুই। দুর্গার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল , কী হল বলো এবার খবর দিয়েছিলে কেন ?
8
পবনদেব জানিয়েছেন এবছর বাপের বাড়ি যেতে হবে আশ্বিনের শুরুতেই। মা বাবাকে তো সে খবরটা দিতে হবে। কিন্তু এখন তো আমার যাওয়ার উপায় নেই।
কেন উপায় নেই কেন ?
9
ডিম দিয়েছি যে , তা দিচ্ছি , কদিন বাদেই ডিম্ ফুটে চান বেরোবে। তাদের দেখাশোনা , খাওয়া দাওয়া করাতে হবে। তুমি বরং অন্য কাউকে দিয়ে খবর পাঠাও। ল্যাজের পিছনের পেখমটি খুলে হুস করে উড়ে চলে গেল হুপুই।
তারপর একে একে বসন্তবৌরি , বেনেবউ , ফিঙে এমনকি দোয়েলকেও বলল দুর্গা। কিন্তু রাজি হল না কেউ। সবার নানারকম কাজ।
তারপর প্রজাপতি , ফড়িং , এমনকি গুবরে পোকাকে পর্যন্ত বলতে বাকি রাখেনি দুর্গা , কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই।
10
তাহলে কি এবার বাপের বাড়ি যাওয়া বাতিল করে দেব ?বিকালবেলা দাওয়ায় বসে , চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে এমনটাই ভাবছিল দুর্গা। তবে যতবারই ভাবছে ততবারই চোখ ভরে ভরে জল আসছে। আঁচল দিয়ে মুছতে হচ্ছে। এমন সময় সারাদিন ঘ্যান ঘ্যান বৃষ্টির পর আকাশের মেঘ একটুখানি ফাঁক করে সুয্যিঠাকুর উঁকি দিলেন।
11
গাছপালার ফাঁক দিয়ে এক টুকরো ভিজে ভিজে রোদের ফালি এসে পড়ল দাওয়ার কোনটিতে। আর ঠিক সেইখানে উড়ে এসে বসল একটা পাখি। পাখিটাকে বেশ বিচ্ছিরি দেখতে। খসখসে কালো রঙের গায়ের রং। তার ওপর সাদা ছিট ছিট। গোল গোল চোখ খুব ছোট নয়। কিন্তু চেহারার কোন ছিরিছাঁদ নেই।
12
এ আবার কি পাখিরে বাবা , আগে তো দেখিনি ?
মনে মনে ভাবছে দুর্গা। এমন সময় ঠিক যেন তার মনের কথাটি বুঝেই পাখিটি বলে উঠল , আমাকে চিনতে পারছনা বুঝি ? চিনবে কি করে আমাকে তো আর আগে দেখোনি ?আসলে আমাকে দেখতে তো মোটেই ভালো নয় , তাই আমি পাতার আড়ালে আড়ালেই থাকি। খুব একটা বাইরে বেরোই না। অন্য পাখিরা আমায় পছন্দ করে না। তাই তাদের সঙ্গেও মেলামেশা নেই। আমাকে তাই অনেকে চেনেনা।
13
দেখতে ভালো না হলেও পাখির কথা বলার ধরণটা কিন্তু বেশ মিঠে। দুর্গা তাই খুশি হয়ে বলল , তাতে কি হয়েছে ? সবাইকে কি আর এরকম দেখতে হয় ? ও নিয়ে ভাবতে নেই। কিন্তু তোমার নামটি কি ?
আমার নামও জানা নেই। আসলে পাখিদের নাম তো তোমরাই দাও। কিন্তু আমাকে কেউ দেখতে পায়না বলে হয়তো নাম দেয়নি। যাক গে আমার দুঃখের কথা থাক। সামনের ঝাঁকড়া গাছটাতেই আমার বাসা। কদিন ধরেই দেখছি তোমার ভারি মন খারাপ। বাপের বাড়িতে খবর পাঠানোর জন্য পাখ - পাকালি সবাইকে সাধা সাধি করছে। আমি যাব তোমার বাপের বাড়িতে খবর দিতে।
14
তুমি যাবে ? আনন্দে আর কথা বেরোলো না দুর্গার।
হ্যাঁ গো , সেই জন্যই তো এলাম। এখন কি বার্তা দিতে হবে সেটা বলো , আর পথঘাট ভালো করে বুঝিয়ে দাও। কাল ভোর ভোর রওনা দেব।
ভারি খুশি হয়ে পাখিকে কোলের কাছে নিয়ে গুছিয়ে বসল দুর্গা। তারপর বলল , বার্তা শুধু এইটুকুই , এবছর আশ্বিনের শুরুতেই ছেলে পুলে নিয়ে বাপের বাড়ি যাব আমি।
15
পাখি চলে গেছে। এদিকে দুর্গার তো মনে হচ্ছে দিন যেন আর কাটছেনা। সাত দিন কেটে গেল। আট দিনও পেরিয়ে গেল। ন'দিনের দিন , দুর্গা তখন হেঁশেলে ব্যস্ত , পাখি এসে বসল বেড়ার ধারে ঝুমকো জবার গাছে।
এসেছো এসেছো , খবর দিতে পেরেছ , পথ হারিয়ে ফেলোনিতো ? রান্নাঘর থেকে খুঁটি হাতেই বেরিয়ে আসে দুর্গা। তাকে অত উতলা দেখে হেসে ফেলে পাখি। হ্যাঁ গো হ্যাঁ চিন্তা কোরোনা খবর দিয়ে এসেছি।
16
আনন্দে দু চোখ ভরে ফের জল এল দুর্গার। চোখ মুছে বলল , এস তো পাখি , আমার কোলে এসে একটু বোসো তো।
ভারি অবাক হয়ে দুর্গার কোলে এসে বসল পাখি। দুর্গা আস্তে আস্তে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিল। আর কি আশ্চর্য অমনি পাখির সারা গা ঢেকে গেল ভারি সুন্দর নীল রঙের পালকে। শুধু পাখির সারা গা ঢেকে গেল ভারি সুন্দর নীল রঙের পালকে। শুধু বুকের কাছে কালো কমলা রং। দুর্গা বলল আজ থেকে আর কেউ তোমাকে কুৎসিত বলবে না। আর আমি তোমার নাম দিলাম নীলকণ্ঠ। এই নামেই চিনবে তোমাকে। এখন থেকে তুমি হলে আমার দূত। প্রতি বছর আমি যখন বাপের বাড়ি যাব তখন তুমি আগে আগে গিয়ে খবর দেবে সবাইকে। আবার যখন কৈলাসে ফিরব তখনও তুমিই সেই বার্তা বয়ে আনবে শিবঠাকুরের জন্য।
দুর্গার দূত
By Srilekha Kumar
Show answer
Auto Play
Slide 1 / 16
SLIDE
Popular Resources on Wayground
11 questions
Hallway & Bathroom Expectations
Quiz
•
6th - 8th Grade
10 questions
HCS SCI 03 Summer School Assessment 2
Quiz
•
3rd Grade
11 questions
Home Scope
Quiz
•
7th - 8th Grade
12 questions
2026 TAP Technology in the Classroom
Presentation
•
Professional Development
15 questions
HCS SCI 05 Summer School Assessment 2 Review
Quiz
•
5th Grade
15 questions
HCS SCI 04 Summer School Review 2
Quiz
•
4th Grade
59 questions
Geometry Unit 3 Review
Quiz
•
9th - 12th Grade
14 questions
FAST ELA READING SMAPLE TEST MATERIALS
Passage
•
3rd Grade